সেই মাশরাফিই দেখালেন ক্যারিয়ার–সেরা বোলিং

0
52
টুর্নামেন্টে খেলবেন কি না এনিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা।ছবি: প্রথম আলো

২১১ রানের লক্ষ্য। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের কাঁধে বিশাল দায়িত্ব। জেমকন খুলনার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই দুজনকেই বড় রান করতে হতো। অভিজ্ঞ মাশরাফি বিন মুর্তজার দায়িত্বটা ছিল এই দুই ব্যাটসম্যানকে থামানো। সবার জানা, এই দুজনের বড় রান ছাড়া চট্টগ্রামের ২০০ ছাড়ানো রান তাড়া করা সম্ভব নয়। চট্টগ্রামের জন্য হিসাবটা ছিল উল্টো। ইনিংসের শুরুতে মাশরাফিকে লাইন-লেংথ এলোমেলো করে দিলেই হয়তো সুবিধা নেওয়া যাবে। কিছু দ্রুত বাউন্ডারিতে একবার চড়ে বসতে পারলেই হলো। এসব ক্রিকেটীয় হিসাব নিশ্চয়ই দুই দলের ক্রিকেটাররাই করেছেন। শেষ পর্যন্ত জিতলেন মাশরাফি। মহা গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে ক্যারিয়ার–সেরা বোলিংয়ে দলকে ফাইনালে তুলে নিলেন মাশরাফি। ৪৭ রানে হেরে কাল আবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে চট্টগ্রাম।

আজ মাশরাফিই জয় এনে দিলেন সাকিবদের।ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় দুই উইকেট সৌম্য ও লিটনকে চড়ে বসার আগে তিনিই আউট করলেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই লিটন চার ও ছয় মেরে বসেন মাশরাফির লেংথ বলে। একই ওভারের শেষ বলে এসে ভুল শটে বিপদ ডেকে আনেন সৌম্য। মিড উইকেটে একমাত্র ফিল্ডার শামিম পাটওয়ারীর কাছে সহজ ক্যাচ দেন সৌম্য। পরের ওভারে এসে লিটনকে বোল্ড করে ম্যাচ প্রায় জিতিয়ে দেন মাশরাফি। লেংথ থেকে নিচু হয়ে আসা বলটি লেগ সাইডে খেলার ভুল করেন লিটন। এ উইকেট দিয়েই আজ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দেড় শ উইকেটও হয়ে গেল মাশরাফির। এমন মাইলফলক ছুঁয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ এমনটা ভাবেননি সাবেক অধিনায়ক।

টুর্নামেন্টে খেলবেন কি না এনিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা।

এরপরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল চট্টগ্রাম। সে চেষ্টা থামিয়েছেন মাশরাফিই। মাঝে এক ওভারের স্পেলে এসে আউট করেছেন ৩ নম্বরে নামা তরুণ মাহমুদুল হাসানকে। ১৮তম ওভারে নিজের শেষ ওভারে এসে নিয়েছেন আরও দুই উইকেট। স্পেলের ঠিক শেষ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে সাকিব আল হাসানের ক্যাচ বানিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। চার ওভারে ৩৫ রান দিয়ে মাশরাফি নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। এর আগে তাঁর সেরা বোলিং ফিগার ছিল ১১ রানে ৪ উইকেট। ম্যাচ ততক্ষণে খুলনার পকেটে। মাশরাফির স্পেল শেষ হতেই যেন খুলনার এক পা বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টির ফাইনালে। অথচ এই টুর্নামেন্টে মাশরাফির খেলা নিয়ে ছিল রাজ্যের শঙ্কা। সব শঙ্কা উড়িয়ে তারকায় ঠাসা খুলনা দলের বড় তারকা বনে গেলেন মাশরাফিই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here